Popondar

Wednesday, November 27, 2024

ইসরায়েল - হেজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

ইসরায়েল - হেজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে


লেবাননে এখন সকাল। যার অর্থ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘোষিত ইসরায়েল-হেজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি এখন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে ইসরায়েল সতর্ক করে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলেও বেসামরিক মানুষজন এখনি যেন বাড়িঘরে ফিরে না যায়।

কয়েক ঘণ্টা আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বৈরুতের দুইটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে আবারও বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে।



তবে, যদি এই চুক্তি বজায় থাকে, তবে এটি ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।

দু'পক্ষের মাঝে চলমান এই যুদ্ধ তীব্র হয়ে ওঠে গত সেপ্টেম্বর মাসে, যখন ইসরায়েল বোমা হামলা বাড়ায় এবং সীমিত স্থল অভিযান শুরু করে।

এখানে উল্লেখ্য, যুদ্ধ বিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে লেবানন থেকে সরে যাবে এবং এই সময়ের মাঝে হেজবুল্লাহর পরিবর্তে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।


যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণ

মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর, মি. নেতানিয়াহু একটি বিবৃতি দিয়ে এ ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সে সময় হোয়াইট হাউস থেকে চুক্তিটিকে বৃহত্তর শান্তির পথ হিসেবে স্বাগত জানান।

নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে হেজবুল্লাহ'র সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির তিনটি কারণ উল্লেখ করেছেন।

১. ইরানের হুমকির প্রতি মনোযোগ দেয়া: এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইসরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান অংশ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস করেছে।

হেজবুল্লাহকে সবসময় ইরানের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান ঢাল হিসাবে দেখা হতো।

কিন্তু হেজবুল্লাহ’র ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ ধ্বংস হওয়ার ফলে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য ইসরায়েলের পক্ষে চলে গেছে।

২. ক্লান্তি: এই শব্দটি তিনি সরাসরি ব্যবহার করেন নি। তবে তিনি এটি বলেছেন যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি বিরতি নেয়া এবং পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ করাটা প্রয়োজন।

ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির সামরিক বাহিনী দুই দিকে দুইটি দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল না।

তবে এখন লেবাননে যদি সংঘাত শেষ হয়, তাহলে গাজায় আরও বেশি ইসরায়েলি বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে যুদ্ধের কোনও সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না।

৩. হামাসকে বিচ্ছিন্ন করা: হেজবুল্লাহকে যুদ্ধ থেকে সরিয়ে নেয়ার অর্থ হল হামাসের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়া।

হামাস বরাবরই মনে করেছে যে ইরানের ‘এক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ এর বাকি সদস্যরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়বে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলেছেন যে ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্ত করার জন্যই তারা এই যুদ্ধ করছেন। যদিও তার এই দাবিটি বিতর্কিত।

গাজায় এখনও আটক থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবার ও আত্মীয়রা মি. নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তারা অভিযোগ করেছেন তিনি গাজা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন এবং বন্দিদের মুক্তি নিয়ে চুক্তি করার ক্ষেত্রে অবহেলা করছেন।

১. পটভূমি: ইসরায়েল এবং লেবাননের শিয়া গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনা এবং সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষ মূলত ইসরায়েলের সীমান্তে হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাথে হামাসের সংঘর্ষের পর, হেজবুল্লাহ সীমান্তে উত্তেজনামূলক কার্যক্রম শুরু করে।


২. বৈঠক ও আলোচনার প্রচেষ্টা: কিছু সূত্র অনুযায়ী, ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে অঘোষিত আলোচনা চলছে, যেখানে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠন কিছু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি সম্পাদিত হয়নি।


৩. চুক্তির সম্ভাবনা: যুদ্ধবিরতির জন্য সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে উভয় পক্ষের মধ্যে হুমকি ও পাল্টা হামলার সংখ্যা কমানো, পাশাপাশি জাতিসংঘ বা অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক শান্তি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া।


৪. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় দেশগুলি এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা হেজবুল্লাহ ও ইসরায়েলকে সংঘর্ষ এড়াতে ও আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে আহ্বান করছে।


এই পরিস্থিতি বর্তমানে অস্থির এবং কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো পর্যন্ত পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।



চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা দলের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন বাইডেনের প্রশাসনের শেষ সময়ে যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যা ট্রাম্পের নির্বাচনি জয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঠিকভাবে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে তার ঐতিহাসিক বিজয় এ অঞ্চলের নেতাদের শান্তির দিকে নিয়ে যাবে এবং আমরা ঠিক এটাই ঘটতে দেখছি” বলেন এ কর্মকর্তা।

তবে এই যুদ্ধ বিরতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী ও হেজবুল্লাহ যোদ্ধাদের প্রত্যাহারের পর দক্ষিণাঞ্চলে হাজার হাজার লেবানিজ সেনা মোতায়েন করা হবে। কিন্তু তাদের কিভাবে মোতায়েন করা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সামরিক বাহিনীর অভিযোগ তাদের এ দায়বদ্ধতা পূরণের জন্য সম্পদ, অর্থ, জনবল এবং সরঞ্জাম নেই।

কিভাবে কার্যকর হবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি?

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবিসিকে যা বলেছেন তা হলো :

  • পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ‘পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার’ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
  • ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণে এবং হেজবুল্লাহ উত্তরে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে লেবাননের সামরিক বাহিনী ব্লু লাইনের চারপাশের এলাকায় টহল দেবে।
  • যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্স বিদ্যমান ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থায় যোগ দেবে। এ ব্যবস্থায় বর্তমানে লেবাননের সামরিক, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই এলাকায় চুক্তি কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য সব অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।
  • লেবাননের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সেনা থাকবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ফরাসি বাহিনী প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং যোগাযোগের মাধ্যমে লেবাননের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করবে।
  • যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশগুলো লেবাননের সামরিক বাহিনীকে একটি সামরিক কারিগরি কমিটি বা এমটিসি’র মাধ্যমে প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা করবে।
  • এ পরিকল্পনাটিতে ‘টেকসই যুদ্ধ বিরতি’ হতে পারে এমন পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় দক্ষিণ লেবাননে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানানো হয়েছে।


No comments:

Post a Comment

ক্রিপ্টোকারেন্সি—অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব

ক্রিপ্টোকারেন্সি: অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লব বর্তমান যুগে প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্...